গল্প ও কবিতা

মেয়েদের জীবন। লেখাঃ কবি রাহুল রায়

#মেয়েদের_জীবন
লেখা : রাহুল রায় ।
—————————-
আমরা ভাবি ছেলেদের জীবনেই যত কষ্ট আর ত্যাগ । মেয়েদের জীবনে তেমন কোন কষ্ট নেই । তারা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেনা ।

আচ্ছা , মেয়েরা কি কখনো ত্যাগ স্বীকার করে না আপন মানুষদের জন্য?
আসলে মেয়েদের জীবনেও অনেক কষ্ট আছে । ত্যাগ জিনিশটা মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে কোন অংশে কম করে না ।
আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থায় অধিকাংশ পরিবারে যদি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে তাহলে তাকে পরিবারের বোঝা মনে করা হয়। সন্তানটি যখন বড় হতে থাকে তখন ছেলে সন্তানের তুলনায় মেয়েটির খাবার, পোশাক,স্বাদ আহ্লাদের ক্ষেত্রেও হতে হয় বৈষম্যের স্বীকার ।
আসলে মেয়ে বলতেই সমাজের কাছে অবহেলিত ও অসহায় । আমাদের সমাজে মেয়েদের-কে অনেকে’ই অবহেলার চোখে দেখে । একটা কন্য সন্তান জন্ম হবার পরে অনেক মা ,বাবাই তাকে অবহেলার চোখে দেখতে শুরু করেন । কারণ তারা ভাবে মেয়েরা কিছুই করতে পারে না । ছেলে হলে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করতে হয় না । মেয়ে হলে বিয়ে দিতে অনেক টাকা লাগে ইত্যাদি । জন্মের পরে মেয়েটা কালো ,না ফর্সা তা নিয়ে সমালোচনার জড় তোলা হয় । মেয়ে কালো হলে তার উপরে অবহেলার পরিমানটা অধিক হয়ে যায় । ছেলেরা যত যাই বলুক না কেনো , দিনশেষে একটা সুন্দরী টুকটুকে মেয়েকেই বিয়ে করার জন্য খোঁজে ।
মেয়েটার শিক্ষাগত যোগ্যতা ছেলেদের কাছে মূখ্য বিষয় নয় । চেহারাটাই তাদের কাছে মূখ্য বিষয় হয়ে উঠে ।
মেয়েটা ভাল কি খারাপ তা বিবেচনা করার আগেই দেখে মেয়েটা দেখতে কালো না সুন্দর । আসলে বেশিরভাগ মানুষ মেয়েদের মনটা বুঝতে চায়না । তাদের চেহারাটা সুন্দর না কালো তা দেখার চেষ্টা করে ।
ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি কাঁদে এটা সত্যি , মেয়েরা সবকিছুতেই একটু বেশি কষ্ট পেয়ে থাকে । কারণ মেয়েদের মন খুব সহজ ,সরল ,ও কোমল হয়ে থাকে ।
তাই তারা খুব বেশি কাঁদে ।
আসলে মেয়েরা কতটুকু কষ্ট সহ্য করতে পারে তা প্রমাণ করে দেয় “মা” শব্দটা ।
একটা পুরুষের জীবনে সাফল্যের পিছনে থাকে একটা নারীর অবদান ।
একটা নারীই পারে দশমাস দশদিন কষ্ট সহ্য করে একটা বাচ্চা প্রসব করতে । সন্তান প্রসবের ব্যাথা যে কতটা কষ্টকর আমরা ছেলেরা তা কখনো বুঝবো না। সন্তান প্রসবের পর সন্তান-কে লালন পালন করতেও তারা অনেক কষ্ট করে থাকে ।

শীতের রাতে যখন মানুষ লেপের নিচে আরাম করে ঘুমায় তখন হয়তো মায়ের সন্তান মায়ের কোলে প্রস্রাব করে দেয় । কিন্তু মা সন্তান কে ভালোবেসে ওমনি জড়িয়ে ধরে ঘুমায়। কতটা কষ্টকর বিষয়গুলো, কিন্তু মায়ের কাছে এসব কষ্ট কোন কষ্টই মনে হয় না ।এসব হলো সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা । রাতের পর রাত জেগে থাকে মা সন্তানের যেন কিছু না হয় । মেয়েটি বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে হয়তো একটু হাসে ,কে জানে এই হাসির পেছনে কতটা বেদনা জড়িয়ে আছে । বাচ্চাকে পেয়ে সবাই মেয়েটাকে’ই ভুলে যায় । মেয়েটা সেই রক্ত মাখা ময়লা বেডে শুয়ে থাকে । নিজের কষ্টটাও মুখ ফোঁটে কাউকে বলতে পারেনা ।
সন্তান একটু খারাপ কাজ করলেই দোষটা পরে মায়ের উপর আর ভালো কাজ করলে কৃতিত্ব টি যেন বাবার। তবুও মা এসব বিষয়ে কিছু বলে না। চুপচাপ সবকিছু সহ্য করেই সন্তানদের ভালোবাসেন। সন্তানের জন্য অনেক কষ্ট করে,ত্যাগ স্বীকার করে।
একটা বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে একটা নারীর অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয় । প্রেগন্যান্সির সময়ও তারা খারাপ লাগা নিয়ে ঘরের প্রতিটা মানুষের সেবা যত্ন করার কথা চিন্তা করতে হয় ।
আসলে মেয়েদের জীবনে ভাললাগা বা ভালবাসার বিশেষ কোন মূল্য থাকে না । একটা মেয়েকে পরিবারে মুখে হাঁসি ফোঁটানোর জন্য পিরিয়ডের সময় প্রচন্ড অসহ্য পেট ব্যাথা নিয়েও তাকে রান্না ঘরে যেতে হয় ।
মেয়েরা চাইলেই ছেলেদের মতো স্বাধীন ভাবে চলফেরা করতে পারেনা ।
মেয়েরা ধূমপান করলেই চরিত্র খারাপ হয়ে যায় । আর ছেলেদের জন্য এটা তেমন কোন বিষয় না ।
মেয়েরা মদ্যপান করলে চরিত্র খারাপ হয়ে যায় । আর ছেলেদের জন্য নাকি এটা পুরুষত্ব বাড়ায় ।
মেয়েরা বন্ধুত্বপূর্ণ হলে, হাসিখুশি হলে ছেলেরা ধরে নিবে ভিন্ন ইশারা, কেউ কেউ ধরে নেয় মেয়েটা খারাপ ।

আর ছেলেরা সবার সাথে মিশলে হয়ে যায় স্বাভাবিক কিংবা সাধারন আচরন ।
মেয়েরা জিন্স পড়লে চরিত্র খারাপ । আর ছেলেদের জন্য শুধুই এটা একটা পোষাক ।
ছেলেরা হাজারটা প্রেম করলেও সমস্যা নেই । মেয়েরা করলেই চরিত্রহীন ।
এই সব কিছু মেনে নিয়েই একটা মেয়েকে জীবনের কঠিন পথগুলো পাড়ি দিতে হয় । সময় এসেছে এইসব কালো চিন্তা থেকে বেড়িয়ে আসার। সময় এসেছে আমাদের ছেলেদের সত্যিকারের ছেলে হিসেবে গড়ে তোলার। তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি সঠিক নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার। তাহলেই বোধকরি নারীর মুক্তি মিলবে, শান্তি মিলবে।

আসলে মেয়েদের নিজেদের কোন ঠিকানা হয়না । বিয়ের আগে বাবার বাড়ি , আর বিয়ের পরে স্বামীর বাড়ি ।
সত্যি একটা মেয়েই পারে একটা সাজানো গোছানো ঘরটা ছেড়ে ,অচেনা এক ঘরে এসে নিজেকে মানিয়ে নিতে । মেয়েদের নাকি সবসময়ই ছোট হয়ে থাকতে হয় ।
তাদের জোড় গলায় কথা বলা একদম সাজে না ।
বিয়ের দিন নিজের বাড়ির সবকিছু ছেড়ে দিয়ে চোখের জল ফেলে বাবার বাড়িটা বিদায় দিয়ে চলে আসে, অন্য এক অচেনা শহরে । আর এটা একটা মেয়ের পক্ষেই সম্ভব । অন্যের বাড়িতে এসে তাদের ভাললাগা কিংবা না লাগা এগুলোর কোন মূল্য থাকে না । কষ্ট হলেও মেয়েদের এসবকিছু মেনে নিতে হয় ।
আর মেনে নেওয়া ছাড়াও বিশেষ কোন উপায় থাকে না তাদের।

কারণ মেয়েদের নাকি জন্মই হয় কষ্ট সহ্য করার জন্য । তবুও মেয়েরা সবকিছু মানিয়ে নিয়ে মুখের কোণে সবসময় মিথ্যা হাঁসিটা দিয়ে যায় । তবুও চলতে ফিরতে তাদের অনেক দোষ ।
বিয়ের পরে মা ,বাবা ,ভাই বোনকে ছেড়ে অন্য একটা সংসারে চলে যেতে হয় । যে পরিবারে একটা মেয়ের শৈশব অতিবাহিত হয় । যে পরিবারের সাথে নানান দুষ্টু মিষ্টি স্মৃতি জড়িয়ে থাকে । সেই ঘরটা শূন্য করে চলে যেতে হয় তাকে অন্য এক পরিবারে । যে মানুষগুলো এক্কেবারে অচেনা ,সেই মানুষগুলোর সাথেও তাকে মানিয়ে চলাটা শিখে নিতে হয় । এর চেয়ে বড় ত্যাগ আর কি হতে পারে?

মেয়েরা ধর্ষন হলে তাদের পোশাক-কে দায়ী করা হয়।
মেয়েদের বয়সটা ১৮ পার হলেই তাদেরকে বিয়ে দেওয়া নিয়ে বাবা ,মায়ের মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যায় । মেয়েদের বয়স একটু বেশি হলে কোন ছেলে বিয়ে করতে চায় না । মেয়েরা ভাল রেজাল্ট না করতে পারলে তাদেরকে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় ।
একটা মেয়েকে তার প্রতিটা কাজে জবাবদিহি করতে হয় । মেয়েরা বাড়ির বাহিরে বের হতে পারবে না । বের হলেই জবাবদিহি ।
মেয়েরা রাত করে বাসায় ফিরলেই জবাবদিহি ।
মেয়েদের ১০৩ ডিগ্রি জ্বর নিয়েও সবার খাবারের কথাটা নিয়ে চিন্তা করতে হয় ।
আমরা ধরে নেই একটা মেয়েকে বিয়ে করে আনা মানেই হচ্ছে, সে সংসারের সব কাজ করবে । তাদেরও যে ভাললাগা ভালবাসা স্বপ্ন আছে এগুলো আমরা ভাবি না । বেমালুম ভুলে যাই।

হ্যাঁ , একটা ছেলে চায় আমি যাকে বিয়ে করবো সে যেন আমার মনের মতো হয় । সে যেন আমাকে একটু বুঝে । মেয়েদের বেলায় কি এই ভাবনাটা স্বাভাবিক নয়?

মেয়েরাও তো চায় আমার জীবন সঙ্গীটা আমার মনের মতো হোক । আমাকে একটু বুঝুক ।
সত্যি বলতে মেয়েরা তেমন কিছু চায়না । বেশিরভাগ মেয়েরা একটু ভালবাসা পেলেই আর তেমন কিছু চায় না ।

একটা মেয়েই পারে একটু ভালবাসা দিয়ে একটা অগোছালো মানুষকে কিংবা একটা অগোছালো সংসারকে গুছিয়ে তুলতে । আবার একটা মেয়েই পারে একটা গোছানো সংসারকে অগোছালো করতে।
এটা একটা মেয়ের পক্ষেই সম্ভব।

আমরা ভাবি সব মেয়েরা’ই টাকা খোঁজে ।
আসলেই কি সব মেয়েরা টাকা খোঁজে?
সত্যি বলতে সব মেয়েরা টাকা খোঁজে না । কিছু মেয়েরা একটা ভাল মন ও একটু ভালবাসাও খোঁজে ।
আসলে মেয়েদের চাহিদা খুব বেশি কিছু থাকে না । মেয়েরা ছোট ছোট জিনিশ গুলোতে খুব খুশি হয় ।
তবুও তারা প্রতিনিয়ত একটা অপবাদ পেয়ে থাকে , মেয়েরা লোভী ।

প্রিয় মানুষটি যদি ১০ টাকা দিয়ে তার পছন্দের এক পাতা টিপ এনে একটা টিপ কপালে দিয়ে বলে তোমাকে আজ অন্য সব দিনের চাইতে খুব বেশি সুন্দর লাগছে তাতেই মেয়েরা অনেক খুশি ।
প্রিয় মানুষটা যদি রাতে বাসায় আসার সময় খুব বেশি কিছু না হোক একটা গোলাপ ফুল বা দু’একটা চকলেট নিয়ে আসে , তাতেই মেয়েরা খুব খুশি হয় ।

মেয়েরা চায় তার প্রিয় মানুষটা বেশি রাত করে না ফিরে একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরুক । এসে একসাথে খেয়ে তার সাথে বারান্দায় কিংবা ছাদে চাঁদের আলো দেখতে দেখতে গল্প করুক । প্রিয় মানুষটা কখন আসবে সেই অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে মেয়েটা । অনেক রাত হলেও প্রিয় মানুষটা না আসা পর্যন্ত না খেয়ে ,না ঘুমিয়ে বসে থাকে ।
তবুও শুনতে হয় মেয়েরা লোভী ।

মেয়েরা চায় তার রান্না করার সময় তার প্রিয় মানুষটা পিছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরে বলুক ,
– খুব কষ্ট হচ্ছে বুঝি ?
সাহায্য না করলেও বলুক , তোমাকে আমি রান্নায় সাহায্য করবো । কিংবা , শাড়ী পড়লে শাড়ির আঁচলটা একটু ঠিক করে দিক । অথবা খুব বেশি দামের কিছু না হোক এক জোড়া নূপুর নিয়ে এসে নিজের হাতে পায়ে দিয়ে দিলেই মেয়েরা খুব খুশি হয় এবং নিজেকে সুখী মনে করতে শুরু করে ।
মেয়েরা খুব দামী না হোক , কোন অনুষ্ঠানের সময় একটা শাড়ী কিংবা একটা ত্রিপিছ এনে দিলেই সে আনন্দে আত্নহারা হয়ে যায় ।

তবু তাদের কে প্রতিনিয়ত শুনতে হয় তাদের নাকি চাহিদার কোন শেষ নেই , তারা লোভী ।
খুব বেশি কষ্টের সময় কপালে একটা চুমু দিয়ে কিংবা হাতে হাত রেখে বললে আমি তোমার পাশে আছি তো, তুমি কোন চিন্তা করো না তাতেই তারা নিজেকে সুখী মনে করে । যদি ভরসার হাতটা মাথায় রেখে বলে আমি তোমার পাশে আছি তো , তাতেই তারা খুশি ।
ঈশ্বর অসীম ধৈর্য্য ,ত্যাগ ,কষ্ট সহ্য করার মতো ক্ষমতা দিয়েছে একমাত্র মেয়েদেরকে’ই ।

মেয়েরা একটু কালো হলে বাবা , মায়ের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায় ,মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার দুশ্চিন্তায় । তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য লাগবে অনেক টাকা সেটা নিয়েও বাবা , মাকে চিন্তা করতে হয় ।
আবার একটি মেয়ে যখন নিজের মা, বাবা, কে ছেড়ে শ্বশুর বাড়িতে চলে যায় তখন তার উপর শুরু হয় নতুন অত্যাচার।
যৌতুক এর কারণে উঠতে বসতে তাকে শুনতে হয় অসংখ্য কথা। শ্বশুর,শাশুড়ি,ননদ সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে মার পর্যন্ত খেতে হয়। স্বামীর দিকে থেকেও শোষণ অত্যাচার বঞ্চনা করা হয় মেয়েদের ।

এতসব অত্যাচারের পরেও যে নীরবে সবকিছু সহ্য করে যায় তার নাম নারী ।
এতকিছু ত্যাগ করার পরেও মেয়েরা কষ্ট ছাড়া আর বিশেষ কিছু উপহার পায় না ।
একটা মেয়েই পারে রান্না করা খাবার থেকে ভাল ভাল খাবারগুলো সন্তানদের মুখে তুলে দিতে । সত্যি তাদের কপালে কখনো ভাল খাবারও জুটে না । পরিবারের সুখের মাঝেই তারা সুখ খুঁজে নেয় । তবুও তারা খারাপ অপবাদটা নিয়ে চলতে হয় । মেয়েদের কল্পনা আর স্বপ্নগুলো বেশিরভাগই স্বপ্ন থেকে যায় । তা আর বাস্তবে রূপ পায় না । পেলেও নেহাত কম।

মেয়েদের যেন স্বপ্ন দেখাও নিষেধ ।
মেয়েদের প্রতিবাদ করারও কোন অধিকার থাকে না । সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করার অভিনয়টা তাদের প্রতিনিয়ত করে যেতে হয় ।
একটা মেয়ে কখনো নিজের জন্য বাঁচে না । জীবনের প্রতিটা সময় সে অন্যের জন্য বাঁচে ।
জন্মের পর তার বাবা , মায়ের জন্য ।
বিয়ের পরে তার স্বামীর জন্য ।
আর সন্তান হওয়ার পরে সেই সন্তানের জন্য ।
মেয়েরা পরিবারের মুখে হাঁসি ফুঁটাতে গিয়ে কখন যে নিজের জীবন থেকে সুখ নামক জিনিসটাকে বিসর্জন দিয়ে দেয় তা সে নিজেও জানেনা ।

কিছু ছেলেরা আসলেই বুঝে না একটা মেয়ে জীবনে কতটা ত্যাগ করে ।
যদি আসলেই তা জানতে ইচ্ছে করে তবে মায়ের কাছ থেকে একবার আপনার শৈশবের গল্পটা শুনুন । বুঝতে পারবেন মেয়েরা জীবনে কি কি ত্যাগ করে জীবনের পথগুলো পাড়ি দেয় । আমি শুনেছি আমার মায়ের কাছে থেকে।
একটা মেয়ের রিলেশনশিপ বেশির ভাগ পরিবারই মেনে নিতে চায়না ।
বাবা , মায়ের ইচ্ছেকে তাদের বেশি প্রাধান্য দিতে হয় । কারণ মেয়েরা অসহায় ।
আর যদি কখনো বাবা , মায়ের অবাধ্য হয়ে ভালবাসার মানুষটির হাত ধরে চলে যায় । আর যখন সেই মানুষটাও প্রতারনা করে তখন মেয়েটার আসলেই আর কিছু করার থাকেনা । না পায় ভালবাসার মানুষটির কাছে ঠায় । না পায় মা , বাবা, কাছে ঠায় । বেশির ভাগ মেয়েরা বিয়ের সময় সবকিছু পায় শুধুমাত্র পছন্দের মানুষটি ছাড়া ।
আসলেই মেয়েরা খুব অসহায় ।
মেয়েরা সবকিছু মেনে নিতে পারলেও প্রিয় মানুষটির অবহেলা মেনে নিতে পারেনা ।

বেশিরভাগ মেয়েরা কখনো তাদের ভালবাসার কথা কাউকে মুখ ফুঁটে বলতে পারেনা । মেয়েদের ভালবাসা সহজে প্রকাশ পায় না । তা বুঝে নিতে হয় ।
মেয়েদের সব না , না হয়না । কিছু না হ্যাঁ ও বোঝায় । তা বুঝে নিতে হয় ।
মেয়েদের বয়সটা ২৫ শের কোঠায় পা রাখলেই পাশের বাসার আন্টিরা বলে মেয়েটা বুড়ি । ছেলের বয়স ৩৫ হলেও সমস্যা নাই । ওটাই হয় তাদের জন্য বিয়ের পারফেক্ট বয়স ।
যেই মেয়েটা সারাদিন হাসি খুশি আর হৈ হোল্লোর করে সবার মুখে হাসি ফোঁটায় সেই মেয়েটা রাতের আঁধারে চোখের নোনা জলে বালিস ভিজায়, সে খেয়াল হয়তো কেউ রাখে না।

আচ্ছা যে মেয়েটা পেটের দায়ে কিংবা পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের দেহটাকে বিকিয়ে দেয় সেই মেয়ে গুলো কি আসলেই খুব বেশি খারাপ হয় ?
না তারা খারাপ হয়ে জন্মগ্রহন করেননি । পৃথিবীর কোন মানুষ নিজ ইচ্ছে করে খারাপ হয় না । প্রতিটা মানুষের খারাপ হওয়ার পিছনে একটা বড় কারণ থাকে । আর প্রতিটা খারাপ মানুষের অন্তরে একটা করে
ভাল মানুষ থাকে। যা আমরা কখনোই বুঝতে চাই না। শুধু তাদের খারাপ দিকটা আমরা দেখি।
রাস্তায় যে মেয়েটাকে দেখে খারাপ বাসায় গালি দেন। কখনো-কি জানার চেষ্টা করেছেন, যে কেনো মেয়েটি এই পথে আসছে?
এই পথে সবাই ইচ্ছে করে যায় না। ইচ্ছে করে যাওয়ার সংখ্যা খুবই কম। কেউ কেউ পরিস্থিতির শিকারে আবার কেউ বা দুমুঠো ভাতের তাগিদে নিজেকে বিকিয়ে দেয়।

রাতের অন্ধকারে তথাকথিত বিবেকবান যেইসব ভদ্রলোকগন পতিতালয়ে গিয়ে থাকেন। দিনের আলোয় সেই ছদ্মবেশী ভদ্রলোকগন
তাদের-কে গালাগাল দিয়ে থাকেন । তাদের-কে কিছু বলার আগে অন্তত একবার তাদের মনের গহিনে লুকিয়ে থাকা গল্পটা জানার চেষ্টা করুন। তাহলে হয়তো খারাপ কথাগুলো মুখে আসবে না। আর হ্যাঁ, তাদেরকে খারাপ বলার আগে একটু ভাবুন – তো আপনি পুরুষ পতিতা নয়-তো?
কারোর দিকে অাঙ্গুল তুলে কিছু বলার আগে, আঙ্গুলটা একবার নিজের দিকে ঘুরান। নিজের বিবেক দিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন । তাহলে অন্যের দিকে আঙ্গুল তুলতেও বিবেক বাধা দিবে।

তাদেরও ইচ্ছে হয় কেউ এসে তাদের মাথায় ভরসার হাতটা মাথায় রাখুক । তাদেরও ইচ্ছে হয় একটা ফুটফুটে সন্তান জন্ম দিতে । তবে তাদেরকে আমাদের এই নষ্ট সমাজ কখনো মেনে নিতে চায়না । ছেলেরা যত নীতি কথা বলুক না কেনো কেউ একটা পতিতা মেয়েকে বিয়ে করে ঘরের বউ হিসেবে তুলতে চায় না। এই মেয়েটা ভাল হতে চাইলে ও সমাজ তাকে ভাল হওয়ার সুযোগ দেয় না । প্রতিনিয়ত চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে তুমি একটা নষ্ট মেয়ে । এই মেয়েগুলো দিন শেষে নিঃশ্ব হয়ে যায় ।

তাদের সুখ , দুঃখ শেয়ার করার মতোও কেউ থাকে না । এইভাবেই হয়তো একদিন নিরবে নিবৃত্তে তাদের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে ।
ছোট্ট একটা জীবনে এতো ত্যাগ স্বীকার করা শুধু মাত্র একটা মেয়ের পক্ষেই সম্বব ।
তবুও মেয়েরা সবার কাছে অবহেলিত ।
মেয়েরা কি না পারে ?
– একটা মেয়েই পারে নিজের জীবনের সব ভাললাগা আর ভালবাসা বিসর্জন দিয়ে একটা পরিবারের মুখে হাঁসি ফুঁটাতে ।
.
– একটা মেয়েই পারে ভাল না থেকেও ভাল থাকার অভিনয় করে ভাল আছি বলতে ।

– একটা মেয়েই পারে পরিবারের সবার মধ্যে দিয়ে নিজের সুখটা খোঁজে নিতে ।

– একটা মেয়েই পারে নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে খাবারটা তুলে দিতে ।

– একটা মেয়েই পারে হাজারও অসহ্য ব্যাথা , কষ্,ট যন্ত্রনা সহ্য করে একটা বাচ্চাকে দশমাস দশদিন পেটে ধারন করে পৃথিবীর মুখ দেখাতে ।

– একটা মেয়েই পারে নিজের জীবনের হাজারও স্বপ্ন অপূর্ণ রেখে তার প্রিয় মানুষটির স্বপ্ন পূর্ণ করতে ।

– একটা মেয়েই পারে কোন অপরাদ না করেও অপরাধীর অপবাদ মাথায় নিয়ে সহ্য করতে ।

– একটা মেয়েই পারে তার পরিবারের সব কটূ কথা মুখ বুঝে সহ্য করতে ।

– একটা মেয়েই পারে সমাজের এতো বৈষম্য মাথায় নিয়ে অনায়াসে একটা জীবন কাটিয়ে দিতে ।

– একটা মেয়েই পারে একটা পরিবারের মা , বাবা , ভাই , বোন সবাই -কে ছেড়ে নতুন একটা পরিবারে এসে সবার সাথে মানিয়ে নিতে ।

– একটা মেয়েই পারে মাঝপথ থেকে একটা অচেনা মানুষকে নিয়ে আবার নতুন করে জীবন গড়ে তুলতে ।

– একটা মেয়েই পারে প্রিয় মানুষটার দেওয়া হাজারও কষ্ট সহ্য করে তার সাথে মানিয়ে চলতে ।

– একটা মেয়েই পারে একটা অগোছালো সংসারকে গুছিয়ে তুলতে । আবার একটা মেয়েই পারে একটা গুছানো সংসারকে অগোছালো করতে ।

মেয়েরা কি না পারে ? কথায় আছে , য়ে নারী রাধতে জানে , সেই নারী চুলও বাধতে জানে ।
এতসব কিছু ত্যাগ করার পরেও মেয়েদেরকে কথা শুনতে হয় ।
এসব কিছু ত্যাগ করার পরেও মেয়েদেরকে অবহেলার চোখে দেখা হয় ।
দিনশেষে মেয়েদের হিসাবের খাতার ফলাফলটাও শূন্য হয় ।
তাদের কষ্টটা যেন বোঝার মতো কেউ থাকে না ।
মেয়েরা হচ্ছে মায়ের জাত । সত্যিই মেয়েদের ছাড়া এই জগত সংসার পরিপূর্ণতায় রূপ পায় না । তাদেরকে সম্মান করতে শিখুন ।
মেয়েদেরকে কখনো অবহেলার চোখে দেখবেন না ।
ভাল থাকুক বাস্তবতার আড়াতে এতো কষ্ট , ত্যাগ , স্বীকার করা মেয়েগুলো ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *