গল্প ও কবিতা

অনুপ্রেরণা- লেখকঃ রাহুল রায়

“বিশ্বাস করুন!!!!
আপনি এই মুহূর্তে পৃথিবীর অতি ভাগ্যবানদের
একজন..!
আজকে পৃথিবীতে এক বিলিয়নের বেশি মানুষ
ক্ষুদার্ত থাকবে।
আপনি আগের বাক্যটি পড়তে পড়তে একজন মানুষ
আত্মহত্যা করে ফেলেছে!
এই পৃথিবীতে ১২০ মিলিয়নের বেশি দাসী এখনও
অত্যাচারীত হচ্ছে!
এই পৃথিবীর ৭০ ভাগ মানুষ জানে না তারা রাতে
কোথায় ঘুমাবে।
পরের বেলা কি খাবে সে নিশ্চিত করে জানে না।
আর আপনি সেই ৩০ ভাগ ভাগ্যবানদের একজন।
সৃষ্টিকর্তার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
যে এই মানুষগুলোর মধ্যে আপনার নামটি নেই
আচ্ছা আপনার সাথে এমন কি হয়েছে?
কেনো নিজের জীবনটাকে এতো মূল্যহীন মনে
করছেন?
——-
কেনো ঈশ্বরের দেওয়া সবচেয়ে দামি উপহার-!
নিজের জীবনটাকে নষ্ট করতে চাইছেন?
কোন দুঃখে?
আপনি আপনার আশে-পাশের মানুষগুলোর দিকে
তাকালেই বুঝতে পারবেন।
যে, জীবনের মূল্যটা আসলে’ই কি?
এই পৃথিবী-তে আপনার আমার মতো হাজারও নজির
আছে,,,, যারা আপনার আমার চেয়ে অনেক খারাপ
পরিস্থিতির উপর দিয়ে সব কিছুকে মেনে নিয়ে
জীবনটাকে অতিক্রম করেছে।
আশে-পাশের রাস্তা মানুষ কিংবা পথ শিশুদের
দিকে তাকালে’ই দেখতে পাবেন….!
যে, সেই মানুষগুলো আপনার আমার মতো তিন বেলা
খেতে পায় না…!
এক বেলা কোনরকম খেলে পরের বেলায় কি খাবে
সে নিজেও জানে না।
দিনের পর-দিন না খেয়ে থাকা ১বেলা খাবারের
জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
তারা আমাদের নিজেকে মতো অভাগা ভাবার সময়
পায় না।
আপনার খাবার পছন্দ হয় না বলে খান না!!
আর তারা খাবার পায় না বলে খায় না!
সমাজের এই বৈষম্য আপনি কি দিয়ে বিচার করবেন।
এতো কিছুর পরও তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখে।
তাদের মুখে হাঁসি-খুশির কোন কমতি নেই। তাদের
তুলনায়ও কি আপনার কষ্টটা খুব বেশি!!
আচ্ছা, আপনি এতিমখানায় গিয়েছেন কখনো?
ওখানে কারা থাকে জানেন-তো?
যাদের বাবা, মা নেই এমন বাচ্চারা এতিমখানায়
থাকে।
ওখানে গেলে দেখতে পাবেন—
বাচ্চারা কতো হাঁসি-খুশি থাকে।।
– এই পৃথিবীতে এই বাচ্চাদের আপন বলতে কেউ নেই!!!
– পৃথিবীর মানুষ তাদের সাথে প্রতারণা করবে!!!
-কিন্তু, তাদের কি দুর্ভাগ্য!
তার আগে’ই প্রকৃতি তাদের সাথে প্রতারণা করে
বসে আছে।
তারপরও তারা কতো সুন্দর একটা পরিবারের মতো
থাকে।
কতো হাঁসি-খুশি নিয়ে বেঁচে থাকে।
তাদের যতটুকু আছে ততটুকু নিয়ে’ই তারা খুব খুশি।
—–
——
“হাসপাতালে” গেলে দেখতে পাবেন জীবনের
আরেক রূপ~~~
হাসপাতালের I.C.U-র বেডে থাকা ক্যান্সারের
রোগীর শরীরের প্রতিটা শিরায়-শিরায় —-
রগে-রগে ব্যথা।
তার আপনার আমার মতো একটা সুস্থ স্বাভাবিক
জীবনে ফিরে আসার জন্য কতটা সংগ্রাম আর যুদ্ধ
করে।।
আপনি বাস্তবে না দেখলে বিশ্বাস’ই করবেন না।
পঙ্গু হাসপাতালে গেলে দেখতে পাবেন!
সম্পূর্ণ সুস্থ —
রাজপুত্রের মতো চেহারা,,,
কিন্তু তার একটা পা অথবা হাত নেই।
কারোর আবার ২’টি চোখ নেই।
তারাও চায় আপনার আমার মতো এই সুন্দর
পৃথিবীটাকে দেখতে।
কিন্তু,দেখতে পায় না।
আবার কারো হাত, পা সব থেকেও নেই।
“প্যারালাইজড” হয়ে অচল।
শিশু হাসপাতালে গেলে দেখবেন আরেক জীবন—
গতকাল যে বাচ্চাটির জন্ম হল।
আজ তার লাশ নিয়ে বের হলো…
বাবা-মা। দীর্ঘদিন সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা
বাবা-মা সন্তান জন্মের পর খুশীতে মিষ্টিমুখ
করানোর আগেই সন্তান বাঁচবে কি না, তা ভেবে
কান্নাকাটি করছে।
এবার আপনি একটু ভেবে দেখুন-তো।
আপনি কি সত্যি’ই কষ্টে আছেন..!
আপনার কষ্টটা কি তাদের থেকেও বেশি।
কেন’ই-বা অর্থবিত্ত-দের সাথে তুলনা করে নিজেকে
অসুখী ভাবেন।
তুলনা যদি করতে’ই হয়।
এদের সাথে তুলনা করে দেখুন! আপনি ভালো আছেন
কি না,,!
হাসপাতালে থাকা মানুষগুলো মৃতপ্রায় হওয়ার
পরেও, তাদের আপনজনেরা চায় নিজেদের শেষ
সুযোগ পর্যন্ত তাদেরকে বাঁচানোর চেষ্টাটুকু করতে।
আর আপনি সুস্থ থেকেও মরে যেতে চান।
কেন?
নিজের জীবনকে এতো মূল্যহীন মনে হয়।
হ্যাঁ, আপনি জীবন দেখেছেন। কিন্তু সংগ্রামের
জীবন দেখেননি।
তাই আপনার কাছে জীবনটা এতো মূল্যহীন মনে হয়।
আচ্ছা, এই মানুষগুলোর চেয়েও কি আপনার আর্থিক,
সামাজিক, মানসিক বা নিজের ডেকে আনা যেই
সমস্যা গুলো।
সেইগুলো নিশ্চয়ই এই মানুষগুলোর চেয়ে বেশি নয়।
এই মানুষগুলোর সাথে মিলিয়ে একবার নিজের
অবস্থানটা চিন্তা করুন।
এতো কিছুর পর কি আপনার মনে হচ্ছে,
আপনি কষ্টে আছেন।
আচ্ছা, আবারও ফিরে যাই।
তাদের কাছে যারা জন্মগত ভাবেই পঙ্গু বা
প্রতিবন্ধী মানুষের কাছে।
তাদের কেউ কেউ দেখতে পায় না, চোখ নেই বলে।
কেউ হাটতে পারে না।
পা নেই বলে।
কেউ আপনার আমার মতো খেতে পারে না হাত নেই
বলে।
কেউ-বা কথা বলতে পারে না।
বাকরুদ্ধ বলে।
নানান রকমের সমস্যা তাদের।
আচ্ছা, তারা জন্মের আগে কি অপরাদ করেছিলো?
যে স্রষ্টা তাদেরকে এই অবস্থায় পৃথিবীতে
পাঠিয়েছেন।
তারা কি স্রষ্টার কাছে এমন জীবন চেয়েছিলো।
না চায়নি!!!
বিশ্বাস করুন।
আপনি কিংবা আমি জীবনটাকে যে জায়গা থেকে
দেখতে পারি।
এই মানুষগুলো আমাদের মতো করে জীবনটাকে
দেখার সুযোগ পায় না।
এইরকম জীবনটা কিন্তু তারা মেনে নেয়।
– জীবনের অনেকগুলো অধ্যায় আছে!
* কিছুটা অন্ধকার!!
* কিছুটা রঙ্গিন!!!
তাদের জীবনটার দিকে একবার তাকিয়ে দেখেন!
তাদের জীবনের পুরোটা অধ্যায় অন্ধকার।
আপনি চাইলে’ই আপনার জীবনের পরের অধ্যায়গুলো
রঙ্গিন করতে পারেন।
তারা আপনার আমার মতো করে কোনদিনও
জীবনটাকে সাজানোর স্বপ্ন দেখতে পারবে না।
কিন্তু, আপনি চাইলে’ই এখন থেকে জীবনটাকে নিয়ে
নতুন স্বপ্ন দেখতে পারবেন।
আসলে আপনি নিজে যদি না বুঝেন, নিজে স্বপ্ন
দেখতে না শিখেন।
তা হলে পৃথিবীর কেউ আপনাকে স্বপ্ন দেখাতে
পারবে না।
জাগিয়ে তুলতে পারবে না।
এই লেখা আপনাকে বড়জোর উৎসাহ দিতে পারবে।
কিন্তু জীবনের পথ আপনাকে একা’ই পাড়ি দিতে
হবে। এবারও কি আপনি বলবেন যে, আপনি’ই দুনিয়ার
সবচেয়ে অসুখী মানুষ।
আপনার থেকে বাজে অবস্থায় বা দুশ্চিন্তায় আর
কেউ নেই।
সুখ আর দুঃখ, এই দুটোই আমাদের জীবনের স্থায়ী
সত্য।
একটার পর আরেকটা আসবেই আসবে!
আমরা একটু দুঃখ পেলে ঈশ্বরের কাছে কতোই না
অভিযোগ করি।
ক্ষোভ প্রকাশ করি।
কিন্তু যখন আমার অসীম সুখে আত্মহারা হয়ে যাই
তখন কোন অভিযোগ থাকে না আমাদের। বিশ্বাস
করুন আপনি এখন যে অবস্থানে । অসংখ্য মানুষ
আপনার অবস্থানটায় আসতে চায়।
আপনি যে অবস্থানে আছেন অনেকেই সেই অবস্থায়
থাকার স্বপ্নে বিভোর,,,
আপনর মতো তিন বেলা অনেকেই খেতে চায়।
আপনি অনেকের স্বপ্ন।
আপনি অনেকের স্বপ্নের জীবনে বেঁচে আছেন। এমন
কি তাদের স্বপ্নের জীবন চুরি করে বেঁচে আছেন।
আপনি অনেকগুলো মানুষের জীবনের লক্ষ্য। ঈশ্বর
কিন্তু, আপনাকে তাদের দলে রাখতে পারতেন।
রাখেননি তো। স্রষ্টাকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ
জানান।
ভেবে দেখুন ঈশ্বর নিশ্চয়ই আপনার প্রতি দয়াশীল,
তাই আপনাকে তাদের দলে রাখেননি।
একটু অপেক্ষা করুন।
এমন কোন রাত নেই যা একসময় সকাল হয় না।
এমন কোন কষ্ট নেই যা একসময় সুখে পরিণত হয় না।
আসুক অন্ধকার, সামনে আলো আসবে’ই।
আসুক কষ্ট সামনে সুখ আসবে’ই।
সবসময়ই, বর্তমানের সাময়িক যন্ত্রণা ভবিষ্যতের
স্থায়ী সুখ রচনা করে। বর্তমানের দুঃখ যতো তীব্র,
ভবিষ্যতের সুখ ততো নিশ্চিত। আপনাকে বর্তমানের
অপমান যতো কষ্ট দিচ্ছে, ভবিষ্যতের সম্মান
ততোধিক আনন্দ সুদেআসলে ফেরত দেবে। এখন মাথা
নিচু করে মুখবুজে সহ্য করুন। যেদিন আনন্দের দিন
ঝলমল করবে, জীবনে সৌভাগ্য আসবে, সেদিন
মাথাউঁচু করে সম্মানের সাথে বাঁচবেন।
আপনি ভাবছেন স্রষ্টা আপনাকে দুঃখ দিয়েছেন।
কষ্ট দিয়েছেন, বিপদ দিয়েছেন।
কিন্তু কতোটা?
এইসব না দিয়ে মিত্যুও তো দিতে পারতেন।
দেয় নি তো!
এমনও তো হতে পারে স্রষ্টা আমাদেরকে মিত্যু না
দিয়ে কষ্ট দিচ্ছেন।
আর সেটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে দামী উপহার।
ঈশ্বর মাঝে মাঝে আমাদের পরীক্ষা নেন। যা
বোঝার ক্ষমতা ঈশ্বর আমাদেরকে দেননি।
একটু ধৈয্য ধরুন।
নিশ্চয়ই কষ্টের পরে সুখ আসবেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *