গল্প ও কবিতা

জীবন বাস্তবতা লেখা : রাহুল রায়

 

 একটা সময় ছিলো, বন্ধুদের সাথে খেলার জন্য একটা বল কেনার মতো সামর্থ্য ছিলো না। একটা বলের টাকা সবাই মিলে যোগান দিতে পারতাম না। কিন্তু, আজ এমন হাজারটা বল কেনার সামর্থ্য থাকলেও সেই খেলার সঙ্গী গুলো নেই।

 যখন কলেজে পড়তাম একটা ভাল মোবাইল চালাতে ইচ্ছে করতো। যেন ছবি তুলতে পারি। তখন বন্ধুদের কাছে মোবাইল চাইলে নানান কথা বলে লজ্জা দিতো। তখন ভাল মোবাইল কেনার সামর্থ্য ছিলো না। আজ ভাল মোবাইল ঠিকই চালাই। ছবি তুলতে আর ইচ্ছে করে না। ছবি তুলে দেওয়ার মতোও কেউ নেই।

 একটা সময় DSLR কিনার ইচ্ছে ছিলো। কিনার মতো সামর্থ্য ছিলো না। আজ মোটামুটি সামর্থ্য থাকলেও সেই ইচ্ছেটা আর নেই।

 একটা সময় টাকার জন্য বন্ধুদের আড্ডায় যেতাম না। আজ সেই বন্ধুদের আড্ডা সামান্য টাকা খরচ করার সামর্থ্য থাকলেও সেই আড্ডা দেওয়ার মতো বন্ধুগুলো নেই।

 একটা সময় বন্ধুদের পার্টিতে যেতে পারতাম না। শুধু মাত্র ৫০ টাকার জন্য। নানান অজুহাত বলে কাটিয়ে যেতাম। আমার টিউশনি আছে। শরীর ভাল লাগছে না। আসলে তখন এগুলো ফ্যাক্ট ছিলো না। সমস্যাটা ছিলো টাকার। আর আজ এমন ১০-১৫ টা পার্টির টাকা একা দেওয়ার সামর্থ্য আছে। কিন্তু, সেই বন্ধুগুলো আর নেই।

 একটা সময় মায়ের আলমারি থেকে চুরি করে খেতাম বলে, মা কতই না বকা দিতো । আর আজ বাড়িতে গেলে হাতে তুলে দিলেও খাইনা। বকা দিয়েও সেইসব খাবার খাওয়াতে পারে না।

 ছোট্ট বেলা একটা চকলেট পেলে কতই না খুশি হতাম। আর আজ সামনে হাজার চকলেট পরে থাকলেও মুখে হাসিটা আগের মতো হয়না।

 একটা সময় আমার কাছে ৫-১০ টাকা থাকা মানেই আমি রাজা ছিলাম। আজ পকেটে ২,০০০ টাকা পরে থাকলেও ৫-১০ টাকার মতো ফিলিংস আসে না।

 যখন স্কুলে পড়তাম তখন ভাবতাম কবে যে কলেজে উঠবো স্কুল জীবন ভাল লাগেনা। আর যখন কলেজে উঠেছি তখন মনে হয়েছিলো স্কুল জীবনটাই ভাল ছিলো। আবার কবে যে সেই স্কুল জীবনে ফিরে যাবো। মাঝে মাঝে ফেলে আসা স্কুলটায় পা থাকলে বুকের ভিতরটায় কেমন যেন একটা চিনচিন ব্যাথা অনুভব হয়। মনে করিয়ে দেয় সেই কত আড্ডা, খুনসুটি, হাসি, কান্না, রাগ, অভিমান গুলো।

*একটা সময় একটু আঘাত পেলে কতই না কান্নাকাটি করতাম। আর আজ শত আঘাত পেলেও ব্যাথাটা তা লুকিয়ে হাসি।

সবাই বলে আমি নাকি ভাল থাকি, আমি বলি আমি নিজেকে ভাল রাখি। কখনোবা পরিবারের জন্য, কখনো নিজের জন্য হলেও নিজেকে ভাল রাখতে হয়। যেহেতু ভাল না থাকায় কারোর কিছু যায়-আসে না। সেহেতু নিজেকে ভাল রাখার দায়িত্বটা নিজের হাতেই রাখি।
ছোট্ট বেলার কথাগুলো মনে পড়লে কখনোবা খুব হাসি পায়। আবার কখনোবা মনের অজান্তে চোখ দিয়ে দু’এক ফোটা জল গড়িয়ে পরে যায়। আবার কেউ দেখবে ভেবে পড়তে না পড়তে মুছে ফেলি। কতদিন বন্ধুদের সাথে আর আগের মতো করে আড্ডা দেওয়া হয়না। তখন আড্ডা দেওয়ার মতো সময় ছিলো কিন্তু টাকা ছিলো না। আজ টাকা আছে আড্ডা দেওয়ার মতো সময়টা নেই। সময় নামের জিনিসটা মানুষকে আর মানুষের জীবনকে কতটা পরিবর্তন করে দেয়া।
যখন আমাদের কোনকিছু ক্রয় করার ইচ্ছে থাকে তখন হয়তো সামর্থ্য থাকে না।
আর যখন সামর্থ্য হয়ে উঠে, তখন আর ইচ্ছেটা থাকে না। জীবনের একটা সময় আমরা টাকার কাছে হেরে যাই। আবার জীবনের অন্তিমলগ্নে টাকা জীবনের কাছে হেরে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *