গল্প ও কবিতা

গল্প:- ভালবাসাঃ কবি রাহুল রায়

ভালবাসা
লেখা : রাহুল রায়

ভালবাসাটা আসলেই কি জানেন?
ভালবাসা হচ্ছে একটা বিশ্বাস বা ভরসা জায়গা।
আর হ্যাঁ, আপনার ভালবাসার মানুষটি যদি তা নিজস্ব নীতিতে ঠিক না থাকে তবে আপনি তাকে অতিরিক্ত শাষণ কিংবা গার্ড দিয়ে রাখতে পারবেন না।
আর তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তার নীতিতে বাধা দেওয়ার মানেই তার মন থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে যাওয়া।
একটা মানুষের সাথে আপনি যত যাই করেন না কেনো তবুও সেই মানুষটা বুঝে নেবে যে আপনি কখনোই তাকে ছেড়ে যাবেন না। এটাই বিশ্বাস যোগ্য ভালবাসা।
আচ্ছা, ভালবাসাটা জিনিসটা একবার মা, বাবাকে দিয়ে তুলনা করে দেখুন তো?
আপনার মা আপনাকে যতই বলুক না কেনো তর মতো ছেলে আমার লাগবে না। তুই মরে গেলেও আফসোস নেই।
তর মতো মেয়ে থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।
একটু আড়াল হয়েই দেখুন না।
আপনাকে মা, বাবা, পাগলের মতো দিশেহারা হয়ে খুঁজবে।
মা, বাবা, এগুলো বলে ঠিকই। কিন্তু, পরে আবার লুকিয়ে কাঁদে। আপনি মা, বাবার কথা শুনে যতটা কষ্ট পান, তার চেয়ে বেশি কষ্ট পায় আপনার বাবা, মা। কারণ, তারা আমাদের ভাল চায় বলেই একটু অনিয়মে শাষণ করেন। আমাদের ভালবাসার মানুষগুলো আমাদের ভালো-খারাপ দুটোতেই বিচলিত হন।
ভাল কিছু করলে তারা অন্যের কাছে গর্ব করেন।
আর খারাপ কিছু করলে তারা খুব কষ্ট পান।

সত্যিকারের ভালবাসাটা তো সেটাই, যে আপনাকে কাঁদিয়ে নিজেও কেঁদে ফেলে।
আচ্ছা, আমরা তো বাবা, মা-কে খুব ভালবাসি তাই না?
বাবা, মা ও আমাদের-কে খুব ভালবাসেন তাই না?
আচ্ছা, আমরা কি কখনো বাবা, মাকে জড়িয়ে ধরে বলতে পেরেছি যে মা, বাবা, আমি তোমাকে ভালবাসি?

একশো থেকে নিরানব্বই ভাগ মানুষই বলতে পারেনা।
তবুও বাবা, মা, বুঝে নেয় যে আমার ছেলেটা বা মেয়েটা আমাকে খুব ভালবাসে। সত্যিকারের ভালবাসা দেখানোর জিনিস না।
এটা অনুভব করার জিনিস।
ভালবাসাটা শুধু মাত্র একটা মনের অনুভূতি। যে অনুভূতি কখনো ধরা ছোঁয়া যায় না। যে অনুভূতি কখনো কোন নিয়ম নীতিতে চলে না।
আর এই অনুভূতির মাঝেই ভালবাসাটা অনুভব করতে হয়।
একটা সত্যিকারের সম্পর্কে রাগ, অভিমান, ঝগড়া, সবকিছুই থাকে। এতোকিছুর পরেও যে সম্পর্কগুলো টিকে থাকে সেটা সত্যিকারের ভালবাসা।
আজ কালকের ভার্চুয়াল জগতের ভালবাসাগুলো যেন কেমন অনুভূতিহীন।
যেখানে সবাই নিজেকে রোমাঞ্চিত করা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চায়।
কেউ কাউকে একটু বুঝতে চায়না। ভার্চুয়াল জগতের সম্পর্কগুলো কেমন যেন মূল্যহীন।
আজকাল একজন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে না চাইলে অপর দিকের মানুষটাও চুপসে যায়। হাল ছেড়ে দিয়ে আবার অন্য কারোর সাথে গিয়ে নিজেকে রোমাঞ্চিত করায় ব্যস্ত থাকতে চায়।
আসলেই ভার্চুয়াল লাইফে আবেগ, অনুভূতি গুলোর কোন মূল্য নেই।
আমরা দিন দিন যতই আধুনিক হচ্ছি ততই আবেগ, ইমোশন, সত্যিকারের ভালবাসার অনুভূতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।

যে আপনাকে সারাদিন শুধু ভালবাসি ভালবাসি বলে বিশ্বাস করাতে চাইবে সেটা আপনাকে সত্যিই ভালবাসে।
তবে বুঝে নেবেন এটা কখনোই সত্যিকারের ভালবাসা ছিলো না।
এটা ছিলো সময়ের প্রয়োজনের কিংবা স্বার্থ উদ্ধারের ভালবাসা।
কারণ, সত্যিকারের ভালবাসা কখনো প্রকাশ হয়না।
আর যে ভালবাসা বেশি প্রকাশ হয় সেটা কখনো সত্যিকারের ভালবাসা হয়না।
প্রিয়জন, আর আপনজন কথাটার মধ্যেও একটা পার্থক্য রয়েছে।
প্রিয়জন সবাই হতে পারলেও আপনজন সবাই হতে পারেনা।
আপনি কাউকে যদি সত্যিই ভালবাসেন সেটা কখনো প্রকাশ করতে হবেনা। আপনার আচার, আচরণ, ব্যবহারে মানুষটা এমনিই বুঝে নিবে।
তবে সত্যিকারের ভালবাসাতে খুব বেশিই কষ্ট থাকে। তবুও তাতে একটা আনন্দ থাকে।
সত্যিকারের ভালবাসা কখনো সিনেমা কিংবা নাটকের মতো রোমান্টিক হয়না।
কারণ, নাটক তো নাটকীয়, ওটা তো কল্পনার জীবন।

আর সত্যিকারের ভালবাসাটাই হচ্ছে বাস্তব জীবন।
কল্পনা আর বাস্তব জীবন কখনোই এক হয়না।

আর ভালবাসা কখনো নিদিষ্ট দিন তারিখের জন্য নয়।
ভালবাসা কখনো নিদিষ্ট দিন তারিখে শোভা পায় না। ভালবাসা থাকতে হয় জীবনের প্রতিটা মিনিট, প্রতিটা সময়, এবং প্রতিটা সেকেন্ডের জন্য।

যে আপনাকে সত্যিকারের ভালবাসে সে শত কষ্টের মাঝেও আপনার হাতটা ধরে রাখতে চাইবে।
যে আপনাকে সত্যিই ভালবাসে আপনার পাশে থাকতে চায়, সে আপনার হাজারটা দোষের মাঝেও একটা গুণ খোঁজে বের করে আপনার পাশে থাকতে চাইবে।
আর যে থাকতে চাইবে না সে হাজারটা গুণের মাঝেও একটা দোষ কিংবা অজুহাত দেখিয়ে চলে যেতে চাইবে।
শুধু ভালবাসি, ভালবাসি বলতে পারার নাম ভালবাসা নয়। জীবনের সব দুঃখ, কষ্ট, বাঁধা, বিপত্তি পেড়িয়ে প্রিয় মানুষটার হাতে হাত রাখার নামই ভালবাসা।
কষ্টের সময় পাশে বসে মাথায় হাতটা রেখে বলা, আমি তো তোমার পাশে আছি তুমি চিন্তা করো না। এর নামই ভালবাসা। আর যদি কখনো কাউকে সত্যিই ভালবেসে থাকেন। শত কষ্টের মাঝেও তার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখবেন। এতেই ভালবাসার মানুষটা স্বস্তি পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *