গল্প ও কবিতা

কর্মের_ফলঃ কবি রাহুল রায়

কর্মের_ফল
লেখা : রাহুল রায়

কর্মের ফল বলতে কিছু আছে বলে যদি বিশ্বাস করেন, তবে কখনো কোনদিন কাউকে ঠকাবেন না।
সত্যি বলতে কাউকে ঠকিয়ে কেউ ভাল থাকতে পারেনা। আজ আপনি কারোর দশ টাকা মেরে খেয়েছেন। দেখবেন অন্য একদিন আপনার থেকে কোন না কোনভাবে বিশ টাকা চলে গেছে। আপনি কাউকে ঠকালে, কোন না কোন একদিন আপনিও কারোর মাধ্যমে ঠকবেন নিশ্চিত।
মানুষ মানুষের সাথে বেইমানী করলেও ঈশ্বর কখনো কারোর সাথে বেইমানী করেন না। তিনি ভাল আর খারাপ দুইটারই প্রতিদান সময় মতো দেন। কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেয় না।
পৃথিবীর প্রতিটা কাজের একটা ফল থাকে, হোক আগে অথবা পরে। আজ যাকে ধোকা দিতে পেরে নিজেকে খুব চালাক ভাবছেন?
একটা সময় পরে আপনি যখন নিজের ভুলটা বুঝতে পারবেন তখন মনে হবে এটা আসলেই নিজের বোকামি ছাড়া কিছু ছিলো না। যাকে ঠকিয়েছেন সে কিন্তু আসলেই বোকা না। সে হয়তো আপনাকে বিশ্বাস করতো। যার মর্যাদা আপনি দিতে পারেন নি। সে কিন্তু একদিন ঠিকই বুঝবে যে আপনি তাকে ঠকিয়েছেন। মানুষ এতো বোকা না। মানুষ সবকিছুই বুঝতে পারে। যাকে ঠকিয়েছেন সে কিছু কান্না করবে, কষ্ট পাবে। মানুষকে নতুন করে শিখতে চিনবে। কিন্তু, আপনি?
আপনি কি করবেন?
সেই মানুষটার কাছ থেকে চিরদিনের জন্য বিশ্বাসটা হারাবেন।
আর নিজের বিবেকের কাছে চিরকাল অপরাধী হয়ে থাকবেন।
দিনের বেলায় সবাইকে ফাঁকি দিয়ে ভদ্রলোক সাজতে পারলেও রাতের আঁধারে নিজের বিবেকের কাছে আপনি হেরে যাবেন।
পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, কেউ আপনাকে শাস্তি না দিলেও আপনার বিবেক আপনাকে প্রতিনিয়ত শাস্তি দিবে। এজন্যই বলা হয় পৃথিবীর সবচাইতে বড় আদালত হচ্ছে মানুষের বিবেক।
যে ঠকে সেও কাঁদে, যে ঠকায়ও সেও কাঁদে। দুদিন আগে আর পরে। নিজের ঠকার চাইতে কাউকে ঠকানোটা সবচেয়ে বেশি কষ্টদায়ক।
আপনি চালাক, আপনি চালাকি করার পরে যদি মানুষ বুঝতেই পারে যে আপনি চালাকি করেছেন।
তবে সেই চালাকির মূল্যটা রইলো কোথায়?
কাউকে ঠকাতে পারাটাই নিজের সফলতা নয়।
বরং, কারোর বিশ্বাস অর্জন করে তারা সাথে সারাজীবন বিশ্বাস নিয়ে চলতে পারাটাই জীবনের সবচাইতে বড় সফলতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *